উন্নয়নের জন্য প্রয়োজন রাজনগরী ঐক্য

আ’লীগের ১৪ বছরের ক্ষমতায় দেশব্যাপী চলছে উন্নয়নের অগ্রযাত্রা। কিন্তু বাস্তবতা বিবেচনা করলে রাজনগর অনেক পিছিয়ে! এর মূল খুঁজতে গেলে অনেক কিছুই বের হয়ে যাবে। কিন্তু এই সময়ে এত কিছু বের না করে রাজনগরের উন্নয়ন করা কি জরুরী নয়?

 

উপজেলার উন্নয়নের মিথ্যা ফুলঝুড়ির আড়ালে দলীয় কোন্দল ক্রমাগত বাড়ছে। সভা-সমাবেশ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এমনকি বার্থডে পার্টি করেও নিজেদের অবস্থান জানান দিচ্ছেন রাজনগরের টপার আ’লীগ নেতৃবৃন্দ।

 

প্রতিনিয়ত বাইক শোডাউন, বার্থডে পার্টি আর দিবস কেন্দ্রীক নিজেদের জনবল দেখাচ্ছেন প্রায় সবাই।

 

সামনে জাতীয় নির্বাচন। এরপরে উপজেলা নির্বাচন। কিন্তু ব্যক্তিগত পর্যালোচনা বলছে, রাজনগরের রাজনীতিটা জাতীয় নির্বাচনের চেয়ে উপজেলা নির্বাচনকে গুরুত্ব দিচ্ছে বেশি! অবশ্য আমরা যারা রাজনগরের আমজনতা। আমাদের কাছে নির্বাচনের চেয়ে কোন রকম সুখে শান্তিতে খেয়ে বেঁচে থাকাটাই সর্বোচ্চ পাওয়া।

 

বিগত কয়েক দশক পর ২০১৯ সালের শেষের দিকে রাজনগর আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম আছকির খান সরে গেলেও ভেলাই মিয়া রয়ে যান সামনেই। কিন্তু নিয়তির নির্মমতা রাজনগরবাসীকে আর সেবা দেওয়ার সুযোগ হয়নি মরহুম ভেলাই মিয়ার। আল্লাহর জিম্মায় চলে যান তিনিও। এরপর উপজেলা আ’লীগের পুরো দায়িত্ব চলে যায় আছকির খানের পরবর্তী উত্তরসূরী সাধারণ সম্পাদক মিলন বখতের হাতে।

 

যদিও এটা রাজনগরবাসী পুরোপুরি অবগত ছিল যে, আগামীর রাজনগর আওয়ামী লীগের নিয়ন্ত্রণ মিলন বখত করবেন। তবে চমক ছিল ভিন্ন জায়গায়। হয়তো সেটা টপ টু বটম কেউ বুঝে উঠতে পারেনি। হঠাৎ শাহজাহান খান এভাবে এসে জায়গা করে নিবেন সেটা ছিল অকল্পনীয়। গত উপজেলা নির্বাচন থেকেই শাহজাহান খানের উত্থান শুরু হয়। যদিও ছাত্র জীবনে ছাত্রলীগের রাজনগর উপজেলার নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। তবে উপজেলা নির্বাচনের শুরু থেকে শাহজাহান খানের চমক ছিল অবিস্মরণীয়।

 

তবে আওয়ামীলীগের অঘোষিত একটা উল্লেখযোগ্য অংশ উনার সাথে মিশেছে সেটা সত্য। অবশ্য প্রশ্ন উঠেছে ভিন্ন জায়গায়। শাহজাহান খানকে জনগন যেভাবে চেয়েছিল সেভাবে কি আসলেই পেয়েছে? রাজনগরের একজন সংবাদকর্মী হিসেবে সেই প্রশ্নের সম্মুখীন হয়েছি বহুবার। হয়তো উপজেলাবাসী ভেবেছিল দলমতের উর্ধ্বে একজন শাহজাহান খান হবেন সবার!

 

রাজনগরের তরুণ প্রজন্ম হয়তো ভেবে রেখেছিল৷ ব্যক্তি শাহজাহান খান হয়ে উঠবেন ঢাকার মেয়র আনিসুল হক, কিংবা মৌলভীবাজারের এম সাইফুর রহমান অথবা চট্টগ্রামের জামালখানের কর্মপটু জনপ্রতিনিধি শৈবাল দাস স্বপন। কিন্তু সেটা না হয়ে হয়েছে ভিন্ন ঘটনা।

 

সবকিছুর পরেও উত্থান-পতন হয়েছে অনেকের। রাজনগরের আরও তৃণমূলে গেলে বহু কথা চলে আসে। ইউনিয়ন নির্বাচন কিংবা ইউনিয়ন পর্যায়ের চমক গুলো আরও অকল্পনীয়। এসব বিষয়ে লিখতে গেলে হয়তো শব্দের অপচয় হবে।

 

সত্যিকার অর্থে আমার কথা গুলো রাজনীতির বাইরে রাখতে চেয়েছিলাম। কিন্তু বর্তমান রাজনগর আওয়ামী লীগ তথা রাজনগরের রাজনীতি যেহেতু শাহজাহান খান-মিলন বখত কেন্দ্রীক সেহেতু রাজনীতির বাইরে যাওয়াও মুশকিল হয়ে যায়। সমান তালে দাপট দেখানো এই দুই রাজনীতিবিদ পর্যাপ্ত ক্ষমতা আর জনশক্তি দেখাচ্ছেন প্রতিনিয়ত। তবে জেলা আওয়ামী লীগের প্রথম সারির নেতাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা শাহজাহান খানের দাপট গুলোও চোখে পড়ার মতো।

 

অবশ্য রাজনগরের রাজনীতিতে শাহজাহান খান ও মিলন বখতের দাপট, গ্রুপ ভারী এসব সাধারন মানুষের কাছে খুব একটা আকর্ষণীয়তা বাড়াচ্ছেনা। সাধারন মানুষ চাচ্ছে উন্নয়ন। এলাকার অগ্রগতি।

 

টেংরা থেকে তারাপাশা ভাঙ্গাচূড়া সড়কের স্থায়ী সমাধান কবে হবে সেটা কেউ জানেনা! মানুষ জানে না বর্ষার সময় বিভিন্ন বাজারের ড্রেনেজ ব্যবস্থার হাল হকিকত কোথায় পৌছাবে! বর্ষায় হাওর আর মনু তীর শান্তিতে থাকবে কি?

 

আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে উপজেলা পরিষদ ভবন সরকার করে দিয়েছে। কিন্তু দুই নেতার গ্রুপিং দ্বন্দ্বে ছয়মাসের বেশি সময় ধরে এই ভবনটা উদ্বোধন পর্যন্ত হয়নি৷ উদ্বোধনের সব প্রস্তুতি নিয়েও তা সম্ভব হয়নি আজও!

 

আরও আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে সরকারি, বেসরকারি, সামাজিক, রাজনৈতিক কোন অনুষ্ঠানেও শাহজাহান খান ও মিলন বখত সামনা-সামনি আসেন না। একজন থাকলে আরেকজন সামনে আসতে চান না। এক পর্যায়ে দুইজনই অনুপস্থিত। যেটা এক সময় অনুষ্ঠানের সৌন্দর্যও নষ্ট করে দেয়!

 

এর অবশ্য একটা বিশাল কারণ স্পষ্ট হয়েছে উপজেলা আওয়ামী লীগের পূর্নাঙ্গ কমিটিকে কেন্দ্র করে! কমিটিতে সবাই জায়গা পেলেও একটা গুরুত্বপূর্ণ অসুন্দর ছিল শাহজাহান খানের গ্রুপকে এই কমিটিতে ডাউন রাখা! জেলা আওয়ামী লীগ এখানে কোন কৌশল দেখালো সেটা রাজনগরের সাধারন জনগন আজও বুঝে উঠতে পারেনি।

 

যদি আমরা রাজনগরের উন্নয়ন বঞ্চিত হওয়ার কারণ হিসেবে জেলা আওয়ামী লীগকে দায়ী করি তাহলে কি খুব বেশি ভুল হবে?

 

রাজনগর আওয়ামী লীগের অস্তিত্বের একটা বিশাল অংশ শাহজাহান খানের সাথেও জড়িত সেটা অবিশ্বাস করার সুযোগ নেই। এমনকি মিলন বখত যে যোগ্য ও ত্যাগী নেতা সেটাও কেউ অস্বীকার করবেনা।

 

আমজনতা হিসেবে আমাদের দুজনকেই প্রয়োজন। প্রয়োজন দুজনের সাথে থাকা সকল তৃণমূল নেতাদেরও। না হলে উন্নয়ন অসম্ভব। সভা সমাবেশ করে উন্নয়নের ফুলঝুড়ি দেখতে দেখতে আমরা ক্লান্ত।

 

আমরা যে শুধু উন্নয়ন বঞ্চিত হচ্ছি সেটাও না। বাড়ছে গ্রামীণ সমস্যা। অনেক ক্ষেত্রে গ্রামীণ সমস্যাগুলোর বিচারিক কার্যক্রমও গ্রুপিং রাজনীতির হাতিয়ার হিসেবে স্পষ্ট হচ্ছে। উপজেলা ব্যাপী আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে প্রতিদিন। কর্নিগ্রাম-রাজনগর সড়ক এখন হয়েছে ছিনতাই প্রধান সড়ক হিসেবে! সন্ধ্যার পর ঘরের বাইরে মোবাইল আর বাজার খরচের টাকা নিয়েও বের হওয়াটা যেন অতিরিক্ত রিস্ক!

 

এসব বিষয়ে পর্যাপ্ত কথা বলতে হলে প্রয়োজন ক্ষমতাসীন রাজনীতিবিদদের দলীয় ঐক্য।

উপজেলার গ্যাস, বিদ্যুতের লাগামহীন লোডশেডিং, রাস্তাঘাটের উন্নয়ন, সংসদীয় আসন পুনরুদ্ধার এসব কারো পক্ষেই একা টেনে আনা সম্ভব না। তাই রাজনগরী ঐক্য এখন সময়ের দাবী। সেটা যদি হয় রাজনীতির বাইরে গিয়ে জনগনের জন্য তাইলে তাই হোক। তবুও হাইকমান্ড লো কমান্ড কেউ সাথে থাকুক না থাকুক, পদ আসুক কিংবা না-ই আসুক জনগন রাজার মুকুট পড়াবে সবাইকে। আমাদের নেতারা আমাদের স্বার্থ দেখুন আমরা সেটা মন খুলে বলার অধিকার রাখি। আমরা আশা রাখি গ্রুপিং দ্বন্দ্বের অবসান ঘটবে। এবং আগামীর সূর্য উঠবে সমৃদ্ধ রাজনগরের বার্তা নিয়ে। নেতারা কে কি মনে রাখবেন জানি না, আমরা সাধারণ জনগণ জানি ঐক্যবদ্ধ সবাই ঐক্যবদ্ধ হোন রাজনগরের উন্নয়নের স্বার্থে।

লেখাটি শেয়ার করুন

Others Post

Sponsor

আরও লেখা পড়ুন